এক সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলিতে আলুর দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি নতুন লাল আলু ২০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এখন তা বেড়ে ৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সাদা আলু ১৫ টাকা বিক্রি হলেও এখন তা ৩০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। হঠাৎ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে আবহাওয়া ভালো হলে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও কমে আসবে বলে দাবি করেন বিক্রেতারা।
ক্রেতারা বলছেন, আলু এমন একটি পণ্য, তিন বেলা রান্নায় এর বিকল্প নেই। নতুন আলু ওঠার ফলে বাজারে দাম অনেক কম ছিল। প্রতি কেজি আলু ১৫-২০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে দাম বেশ ঊর্ধ্বমুখী।
হিলি বাজারে আলু কিনতে আসা হায়দার আলী বলেন, ‘মানুষ যে একটু ভর্তা ভাত খাবে সেই উপায়ও থাকছে না। যে আলু আমরা এক সপ্তাহ আগেও কিনলাম ১৫-২০ টাকা কেজি দরে, সেই আলু এখন কিনতে হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন সরবরাহ কম। কিন্তু বাজারে তো সব দোকানেই আলু রয়েছে। তার পরও কেন দাম বাড়ছে?’
হিলি বাজারের আলু বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘দেশীয় নতুন আলু উঠতে শুরু করায় বাজারে পণ্যটির সরবরাহ বেড়েছিল। এজন্য দাম কমে নাগালের মধ্যে এসেছিল। সে সময় আমরা প্রতি কেজি আলু ১৫-২০ টাকা বিক্রি করেছি। কিন্তু এখন মোকামেই আলুর দাম ঊর্ধ্বমুখী। এ কারণে বাজারেও দাম বাড়ছে। এর কারণ হলো কয়েকদিন ধরে এ অঞ্চলে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা বিরাজ করছে। ফলে কৃষক খেত থেকে আলু তুলতে পারছেন না। ফলে বাজারে পণ্যটির সরবরাহ আগের তুলনায় কমে এসেছে। সেই সঙ্গে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকার এসে এ অঞ্চল থেকে আলু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে বাজারে চাহিদার তুলনায় পণ্যটির সরবরাহ কমে গেছে। তবে আবহাওয়া ভালো হলে কৃষক খেত থেকে পর্যাপ্ত আলু তুলতে পারবেন। তখন বাজারে পণ্যটির সরবরাহ বাড়বে। পাশাপাশি দামও কমে আসবে।’